জলবায়ুর সুবিচার ও উপকূলবাসীর অধিকার দাবিতে কয়রায় তরুণদের ধর্মঘট
শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১০টার দিকে শাকবাড়িয়া নদীর তীরে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় তরুণ ও পরিবেশকর্মীদের সংগঠন ইয়ুথ ল্যাব এবং ইয়ুথ ফর সুন্দরবন কয়রার যৌথ উদ্যোগে এ জলবায়ু ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণরা নদীর চর, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল জলবায়ুর সুবিচার, উপকূলবাসীর অধিকার, জীবাশ্ম জ্বালানি রোধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের বিভিন্ন দাবি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ন্যায্যতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির পথে, জীবাশ্মমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ি একসাথে।
ইয়ুথ ল্যাবের কয়রা প্রতিনিধি রাসেল আহাম্মেদ Bnc News-কে জানান, উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে কয়রার মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব মোকাবিলা করছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগ এখানকার মানুষের জীবনে স্থায়ী সংকট তৈরি করেছে। এর মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটা, অবৈধ করাতকল ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের নামে গাছ কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ছাড়া টেকসই ভবিষ্যৎ সম্ভব নয়।
আরেক প্রতিনিধি নিরাপদ মুন্ডা Bnc News-কে জানান, জলবায়ু সংকটে উন্নত দেশগুলোর দায় সবচেয়ে বেশি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী। জলবায়ুর সুবিচার কোনো দয়া নয়, এটি উপকূলবাসীর ন্যায্য অধিকার। তিনি নীতিনির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় জলবায়ুকর্মী সুব্রত মুন্ডা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে নিরাপদ পরিবেশে বেঁচে থাকার সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এ সময় কর্মসূচিতে মনিরুল ইসলাম, মো. সবুজ, সঞ্জয় আব্দুর রহিমসহ স্থানীয় তরুণ ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে Bnc news-এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের bncbd.com ভিজিট করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন